Header Ads

Header ADS

মুসলিম ঐক্য কিভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে: আল্লাহ কি বলেন? মুনাফিক মুসলিম দেশ ও মুসলিম ঐক্য

 


মুসলিম ঐক্য কিভাবে
প্রতিষ্ঠা করতে হবে: আল্লাহ কি বলেন?
মুনাফিক মুসলিম দেশ

মুসলিম ঐক্য

 

হামাস ইসরায়েল যুদ্ধ ও মুসলিম ঐক্য

গত তেইশ সালের সাতই অক্টোবর হামাস ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে মদ্ধপ্রাচ্চের রাজনৈতিক মেরুকরণ বদলাতে থাকে। তবে কয়েকটি মোনাফিক মুসলিম দেশের শাসকদের মুনাফিকী  মুসলিম বিশ্বে ক্রমান্বয়ে  স্পষ্ট হতে থাকে।

ফিলিস্তিন মদ্ধপ্রাচ্চের আরব দেশের অঞ্চলের হলেও যুদ্ধ বাধার পর কোনো আরব দেশ গুলো সক্রিয়ভাবে হামাসকে আর্থিক বা অস্ত্র সাহার্য করতে এগিয়ে আসেনি। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরব জনগনণের আত্মিক সমর্থন থাকার কারণে জনরোষের ভয়ে আরব শাসকরা মুখে মুখে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বললেও তারা ইসরায়েল বা আমেরিকার বিপক্ষে শক্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি। বরঞ্চ গোপনে গোপনে এই আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে সাহার্য করেছে।

এর কারণ হলো, অধিকাংশ আরব দেশের শাসকরা হয় রাজা বা বাদশা - মানে অধিকাংশ আরব দেশগুলো রাজতান্ত্রিক। কিছু কিছু আরব মুসলিম দেশ নামে গণতান্ত্রিক হলেও ওই দেশের শাসকরা স্বৈরশাসক রাজতান্ত্রিক বা স্বৈরশাসক এর আওতায় থাকা দেশের শাসকরা কখনো ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগনণের উপর নির্ভর করেন না। দমননীতির মাদ্ধমেই তারা দেশ শাসন করে থাকেন। এর জন্য কোনো একটি বড়শক্তিধর দেশের উপর নির্ভর করেই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকেন। কারণে মদ্ধপ্রাচ্চের মুসলিম অনেক দেশই সুপারপাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল এবং কখনো তারা আমেরিকার স্বার্থের বাইরে যেতে চান না।

যেহেতু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মদ্ধপ্রাচ্চে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইসরায়েলকে তাদের হাতিয়ার  হিসেবে কাজে লাগাতে চায়, সেহেতু তারা ন্যায় অন্যায় সকল পরিস্থিতিতেই ইসরায়েলকে সমর্থন করে ইসরায়েলের শক্তির শ্রেষ্টত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল অস্ত্র সরবরাহ করে। কারণে ইসরায়েলের কাছে সকল আধুনিক মারণাস্ত্রের মজুত সদা সর্বদাই থাকে। তাছাড়া, মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে  - এমনকি নিজেদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরায়েল নিজেও সামরিক ক্ষেত্রে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কারণে মদ্ধপ্রাচ্চের অনেক মুসলিম দেশ ইসরায়েলের বিপক্ষে কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না। তাদের কেউ কেউ ইসরায়েল থেকেও তাদের দেশের জন্য অস্ত্র শস্ত্র কিনে থাকে। আর তেল বেঁচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেতো অনেক আগে থেকেই অনেক মুসলিম দেশ অস্ত্র কিনছে।

এমতাবস্থায়, মদ্ধপ্রাচ্যের একটি অনারব দেশ ইরান ফিলিস্তিনিদের সাহার্যে এগিয়ে আসে। সে দেশটি গোপনে হামাসকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকার সংগ্রামে প্রশংসনীয় ভূমিকা এযাবৎ কাল পর্যন্ত প্রশংসনীয় অবদান রেখে এসেছে তাছাড়া, ইয়েমেনের হুথি লেবাননের হেজবোল্লাহকে অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে হামাসের সহযোগী হিসেবে দাঁড় করিয়েও ফিলিস্তিনিদের সাহার্য করছে।  

আজ আটাশই  জুন ২০২৪। ইতোমধ্যে যুদ্ধের নয় মাস  পেরিয়ে গেছে এবং এই নয় মাসের যুদ্ধে ইসরায়েল আটত্রিশ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু ও নর-নারী হত্যা করেও হামাসের সাথে যুদ্ধে বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না। বরঞ্চ, গণহত্যা করার কারণে আন্তর্জাতিক ধিক্কার  প্রাপ্তিসহ তাদের অনেক বন্ধু দেশের সমর্থনও ইসরায়েল হারিয়ে ফেলেছে।

পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, ইসরায়েল গাজা হতে খুব শীঘ্রই সরে পড়বে । ইসরায়েল চাচ্ছে, তারা গাজা থেকে  সরে আসলে আরব দেশসমূহের একটি সম্মিলিত বাহিনী গাজার প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে। উল্লেক্ষ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের শাসন বিন্যাসের আওতায় সীমিত পর্যায়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা ব্যবহার করে ফিলিস্তিন শাসন করে ব্যাপক দুর্নীতি ইসরায়েলের তাবেদারী করার কারণে তাদের প্রতি ফিলিস্তিনি জনগণের ব্যাপক সমর্থন নেই ইসরায়েলের এই ধরণের পরিকল্পনা হামাস মেনে নেবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে । হামাস আরো বলেছে, গাজায় যে কোনো  বাইরের দেশের সৈন্যদেরকেই তারা ফিলিস্তিনিদের শত্রু ভাববে। ইসরায়েল ধরণের প্রস্তাব এ জন্য দিয়েছে যে, গাজায় যে সকল আরব দেশের সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তাব ইসরায়েল দিয়েছে, ওই আরব দেশগুলো ইসরায়েলের বন্ধু দেশ এবং ওই মুসলিম দেশের সৈন্যরা যদি গাজার শাসনভার নেয়, তাহলে গাজাতে ইসরায়েলিদের স্বার্থ রক্ষা পাবে। মানে গাজার সন্নিকটে ভুমদ্ধ সাগরে বিপুল তেল গ্যাসের খনি হতে তারা নির্বিগ্নে তেল গ্যাস উত্তোলন করে বিদেশে রফতানি করতে পারবে।    

মুসলিম অনৈককের কারণ

প্রিয় শ্রোতা, এতক্ষন ধরে ফিলিস্তিনে বর্তমানকার বিরাজিত যুদ্ধাবস্থার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এজন্য দিলাম যে, আজ মুসলিম বিশ্ব খন্ড বিখন্ডিত হয়ে পড়েছে। মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার কারণেই ইটা হয়েছে। কি কি কারণে মুসলিম বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে, ইটা আপনারা সবাই জানেন। এই যে কিছুক্ষন আগে আমরা আলোচনা করেছি, রাজতন্ত্র রক্ষা করতে বা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে অনেক মুসলিম দেশের শাসকরা শক্তিশালী অমুসলিম দেশের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশ চালাচ্ছে।

আবার আকিদাগত বিভেদ থাকার কারণেও বিভিন্ন দেশের আলেম সমাজ এক হতে পারছে না বরং আকিদার প্রশ্নে তারা মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করে দিচ্ছে। এমনকি আকিদার  বাহাসে একটি মুসলিম দেশের সাথে আর একটি মুসলিম দেশ বা সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ বিগ্রহ বেঁধে যাচ্ছে। খুন খারাবি ঝগড়া বিবাদও অনেক মুসলিম দেশের সমাজে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি, আকিদার নামে কোনো একটি মুসলিম গোষ্ঠী আর একটি মুসলিম গোষ্ঠীর মসজিদে বোমা মেরে মুসলিমদের মেরে ফেলছে। হত্যাকারী এই সব বিভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী মুসলিমরা মনে করে, ওই মুসলিমরা তাগুত হয়ে পড়েছে যে কারণে তাদেরকে হত্যা করা জায়েজ রয়েছে।

এভাবে কত যে ভ্রান্ত আকিদার মুসলিম সমাজ সারা বিশ্বে রয়েছে, তার কোনো শেষ নেই। এরই সুযোগ নিচ্ছে অমুসলিম দেশ বা সম্প্রদায় গুলো। আমরা যদি এক কালেমায় বিশ্বাসী মুসলিমদেরকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সারা বিশ্বে মুসলিম প্রাধান্য বৃদ্ধি পাবে।

স্বার্থগত কারণে অনেক মুসলিম দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছে। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে এই কিছুদিন আগেও হামাসের পৃষ্ঠপোষক মদ্ধপ্রাচ্চের দেশ কাতার হামাসের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির মদ্ধস্ততা করেছে, কিন্তু ১৯৯৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৃত একটি চুক্তির বলে কাতার তাদের দেশে আমেরিকাকে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটিতে তাদের আধুনিক সব সমরাস্ত্র স্থাপন করে রেখেছে। এমনকি সম্প্রতি লেবাননের সাথে ইসরায়েলের সম্ভাব্য যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকা কাতারের এই ঘাঁটিতে অনেকগুলো পারমাণবিক অস্ত্রও  ইরান ও লেবাননের দিকে রেডি টু ফায়ার অবস্থায় তাক রেখেছে। অধুনা তারা কাতারকে নির্দেশ দিয়েছে যে কাটার হতে হামাসের সদর দফতর সরিয়ে দিতে। কাটার তাই করেছে।  কারণ, ইটা না করে কাতারের উপায় নেই। কেননা, আমেরিকা কাতারের ঘাঁটি  হতেই যে কোন সময়ে আক্রমণ করে কাতার দখল করে ফেলতে পারে।

এমতাবস্থায় লেবাননের হেজবোল্লাহ ঘোষণা দিয়েছে যে প্রয়োজনে তারা  কাতারে  আক্রমণ করবে। কাতারে আক্রমণ হলে একটি মুসলিম দেশের সাথে আর একটি মুসলিম দেশের যুদ্ধ বেঁধে যাবে। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। এরকম দ্বন্দ্ব একাধিক মুসলিম দেশের সাথে একাধিক মুসলিম দেশের মধ্যে বর্তমান সময়ে বিরাজমান রয়েছে।

কেমন করে  মুসলিম বিশ্বের দ্বন্দ্বের অবসান করা যায়?

এখন প্রশ্ন হলো কেমন করে ধরনের দ্বন্দ্বের অবসান করা যায়। আমার মতে, যদিও সবচাইতে ভালো ব্যবস্থা হলো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, - রকমের উদ্যোগে সফলতা আসবে বলে মনে হয় না। কারণ অমুসলিম  দেশসমূহ তাদের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখতে কখনো কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল হতে দেবে না। বিকল্প আর একটি উপায় হলো, ওআইসি বা অর্গানিজশন অফ ইসলামিক কান্ট্রিস কে পশ্চিমা সমর্থক মুসলিম দেশসমূহের নেতৃত্ব থেকে বের করে এনে ওআইসির মাদ্ধমে বিবাদমান মুসলিম দেশ সমূহের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা। এতেও যদি না হয়, ন্যায়নিষ্ঠ দৃষ্টিতে যে মুস্লিম দেশটি আর একটি মুসলিম দেশ কর্তৃক অন্যায়ের শিকার হচ্ছে, মুসলিম দেশসমূহের সম্মিলিত সৈন্য বাহিনীর সক্রিয় পদক্ষেপে সেই অত্যাচারি মুসলিম দেশটির গোয়ার্তুমির  নিরসন করা। এটি করতে হলে নাটোর মতো মুসলিম দেশগুলোর একটি সম্মিলিত সামরিক বাহিনী থাকতে হবে।  

মুসলিম অনৈক্য নিরসনে আল্লাহর বিধান

প্রিয় দর্শক, যে উপদেশটি আমি দিলাম, এটি আমার উপদেশ পরামর্শ হলেও আমাদের প্রতি আল্লাহ্পাকের নির্দেশের সামঞ্জস্য রয়েছে। বলতে পারেন, আল্লাহ পাকের আদেশও এই রকম,  আল্লাহ্পাকের ভাষায়,   মুসলিমরা ভাই ভাই। এক ভাইয়ের সাথে আরেক ভাইয়ের দ্বন্দ্ব বা যুদ্ধ লাগলে কিভাবে এর সমাধান করতে হবে, পবিত্র কোরানে আল্লাহ্পাক তা বলে দিয়েছেন। সূরা আল-হুজুরাত এর নয় নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,


Sura Hujurat 49:9


وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱقۡتَتَلُواْ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَاۖ فَإِنۢ بَغَتۡ إِحۡدَىٰهُمَا عَلَى ٱلۡأُخۡرَىٰ فَقَٰتِلُواْ ٱلَّتِي تَبۡغِي حَتَّىٰ تَفِيٓءَ إِلَىٰٓ أَمۡرِ ٱللَّهِۚ فَإِن فَآءَتۡ فَأَصۡلِحُواْ بَيۡنَهُمَا بِٱلۡعَدۡلِ وَأَقۡسِطُوٓاْۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ


যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনছাফকারীদেরকে পছন্দ করেন।

 

প্রিয় দর্শক, দেখলেনতো, এক মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে আরেক মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব অবসানের পন্থাটি আল্লাহ পাক স্বয়ং পবিত্র কোরানে বলে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যে সম্পর্ক রয়েছে, আল্লাহ পাকের এই আদেশ পালন করা খুবই একটি ব্যাপার। স্বার্থগত যে কারণগুলোর উল্লেখ আমরা ইতোপূর্বে করলাম, তার বাইরে খুব বড় যে বাধাগুলো রয়েছে, তার মধ্যে মুসলিম বিশ্বের আকিদাগত পার্থক্য। শিয়া সুন্নি দ্বন্দ্ব ছাড়াও আরো অনেক আকিদাগত দ্বন্দ্ব মুসলিম সমাজে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই দ্বন্দ্ব গুলো কমিয়ে আনতে বিশ্বের আলেম সমাজই প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন।

তবে আল্লাহ্পাক যেকোনো সময়ে মুসলিমদের ঐক্কে সাহার্য করতে পারেন। যেমন ধরুন, এখনতো রাজতান্ত্রিক বা স্বৈরশাসনতান্ত্রিক দেশগুলো তাদের তেল বিক্রি করে আমেরিকা হতে আধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে। বাস্তব ব্যাপার হলো, তারা এই অস্ত্র কিনছে তাদের দেশের জনগণকে দমন করার জন্য এবং তাদের শত্রু প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সাথে যুদ্ধ করার জন্য। কয়েক বছর আগেও মুসলিম সৌদি আরব তাদের প্রতিবেশী মুসলিম দেশ ইয়েমেনের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।  

ধরে নিন, আল্লাহ্পাক যদি কখনো মুসলিম দেশের প্রতি তার রহমত বর্ষণ করেন সকল মুসলিম দেশ এক হয়ে অমুসলিম দেশের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে অমুসলিম দেশ হতে সংগ্রহকৃত সকল সোমরাস্ত্রই মুসলিম বিশ্বের কাজে আসবে। সবই আল্লাহ পাকের ইচ্ছাধীন। তিনি যখন চাইবেন, তখনি তা হবে। নবীজির হাদিসের আলোকে অনুষ্ঠিতব্য গাজওয়াতুল হিন্দ এর যুদ্ধে সকল মুসলিম দেশ অমুসলিম দেশের সাথে যুদ্ধে  লিপ্ত হবে বলে উল্লেখ রয়েছে - যে যুদ্ধে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনীরই জয় হবে।

ইতোমধ্যে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন  মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা হেজবোল্লাহকে দমন করার জন্য লেবাননে আক্রমণ করবে। ইতোমধ্যে লেবাননের কাছে ভুমদ্ধ সাগরে অবস্থিত সাইপ্রাসে আমেরিকা ও ইসরায়েল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্য মোতায়েন করেছে।

আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে ইতোমধ্যে হেজবোল্লাহকে সাহার্য করার জন্য আফ্গাগানিস্তানের তালিবান যোদ্ধারা লেবাননে জমা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানও লেবাননকে সামরিক সহ্য করার কথা জানিয়েছেন।  আরো একটি খবর কয়েকদিন আগে বেরিয়েছে যে, আমাদের পার্শবর্তী বড় দেশটি ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার জন্য  ইসরায়েলকে অস্ত্রসস্ত্র দিচ্ছে। গত পরশু ইস্রায়েলমুখী ভারতের পাঠানো দুটি অস্ত্রবাহী জাহাজ স্পেনের উপকূলে শনাক্তও করা হয়েছে। পরিস্থিতির আলোকে বলা যায় যে - গাজওয়াতুল হিন্দ শুরু হওয়ার কিছু কিছু আলামত এখন থেকেই পরিষ্কার হচ্ছে। 

 

আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে,…..

অবশ্যই আমাদের একটি দল ভারতের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্ সেই দলের যোদ্ধাদের সফলতা দান করবেন, আর তারা রাজাদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে এবং আল্লাহ্ সেই যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন (এই বরকতময় যুদ্ধের দরুন) এবং সে মুসলিমেরা ফিরে আসবে তারা ঈসা ইবনে মরিয়ম কে সিরিয়ায় (শাম) পাবে।

আবু হুরায়রা বলেন,

আমি যদি সেই গাযওয়া পেতাম, তাহলে আমার সকল নতুন পুরাতন সামগ্রী বিক্রি করে দিতাম এবং এতে অংশগ্রহণ করতাম যখন আল্লাহ্ (সুবঃ) আমাদের সফলতা দান করতেন এবং আমরা ফিরতাম, তখন আমি একজন মুক্ত আবু হুরায়রা হতাম; যে কিনা সিরিয়ায় হযরত ঈসা কে পাবার গর্ব নিয়ে ফিরত মুহাম্মাদ (স.) ! সেটা আমার গভীর ইচ্ছা যে - আমি ঈসা এর এত নিকটবর্তী হতে পারতাম, আমি তাকে বলতে পারতাম যে আমি মুহাম্মাদের (স.) একজন সাহাবী।"

 

প্রিয় শ্রোতা, মুসলিম ঐক্যের প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবসময়েই মনে প্রায় আশা পোষণ করবো এবং এর জন্য আল্লাহ্পাকের কাছে দোআ করবো। আল্লাহ্পাকের রহমতের আশাইতো আমাদের সদা-সর্বদার  ভরসা। আর আল্লাহ্পাকের সাহার্য পাওয়ার মানসে আমরা  সবাই মুসলিম ঐক্যের পক্ষে কাজ করে যাবো। 

বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হউক, আল্লাহ্পাকের কাছে এই দোআই আমরা করি। আমিন।   

সবাই ভালো থাকুন

আল্লাহ হাফিজ,

আস্সালামুআলাইকুম। 

এ সম্পর্কিত ভিডিওটি দেখুন 

https://youtu.be/lMblu3A78LE

 

No comments

Powered by Blogger.